Friday, 11 September 2020

এক সী কোষ্ট ট্রেকিং-এর স্মৃতিচারণ।

     অ্যলবামের পাতা উল্টাতে উল্টাতে অতীতে ফিরে যাওয়া  আমার এক অন‍্যতম ভালোলাগার কাজ।এখন এই করোনা আবর্তিত জীবনে 'stay home stay safe' জমানায় মাঝে মাঝেই তার সদ্ব্যবহার করতে পারছি।আমি আজ প্রায় সাড়ে আটাশ বছর আগের এক সমুদ্রের ধার বরাবর পায়ে হেঁটে চলার( সী কোষ্ট ট্রেকিং)গল্প বলছি।বাঙালীদের তো পায়ের তলায় সরষে আর দী-পু-দা মানে দীঘা ,পুরী ,দার্জিলিং এই তিন জায়গা বেড়াতে যায় নি এমন বাঙালী পাওয়া দুষ্কর। এরই সাথে যোগ হয়েছে বিশাখাপত্নম বা ভাইজ‍্যাগ।তাই আমার  মনে হয় অনেকেই আমার এই লেখার সাথে নিজেদের ঘোরাঘুরির মেলবন্ধন করতে পারবেন।আমরা চাকুরিসূত্রে বিশাখাপত্নম স্টীল প্ল‍্যান্ট টাউনশীপে থাকতাম।এখানকার লায়ন্স  ক্লাব 1991-এর ডিসেম্বর  মাসে একবার এই স্টীলপ‍্যান্টের তিনটি হাইস্কুলের(কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, ডিএভি ও তেলেগু মিডিয়াম স্কুল) বাচ্চাদের নিয়ে একটা coastal Trekking এর আযোজন করেছি্ল।সৌভাগ্যবশতঃ আমিও ওই ট্রেকিং পর্বের এক সদস্য হবার সুযোগ পেয়েছিলাম।               বিশাখাপত্নম থেকে ভীমলিপত্নম সড়ক পথে প্রায় ২৫কিলোমিটার আর সমুদ্রের কিনারা বরাবর কতটা ছিল তা আজ আর মনে নেই।            আমরা  খুব  সকালে বাসে করে টাউনশীপ থেকে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা (স্টীল টাউনশীপ থেকে  এই দূরত্বটা ছিল  প্রায় 30কিলোমিটার) এখন যেখানে কৈলাসগিরি ঠিক তার নীচে আপ্পুঘর বলে বিভিন্ন রাইড সমৃদ্ধ একটা অ্যমিউসমেন্ট পার্ক ছিল সেখানে  এসে পৌঁছোয়। সেইসময় অবশ্য  কৈলাসগিরি বিশাখাপত্নমের অন‍্যতম দর্শনীয় স্থান হিসাবে  বিকশিত হয় নি।আমরা আমাদের  প্রাতরাশ শেষ করে  এই ট্রেকিং -এর নিয়মগুলো সব ঠিকঠাক জেনে নিয়ে খুব আনন্দ ও উদ্দ‍্যমের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের কিনারা বরাবর আমাদের পাযে হেঁটে চলা শুরু করেছিলাম। সমুদ্রের ধার দিয়ে দিয়ে তার অপরুপ সৌন্দর্যের ডালি মুগ্ধ হয়ে দেখতে দেখতে এগিয়ে চলেছি, আবার কোথাও কোথাও সামুদ্রিক মাছ শুকোচ্ছে তো নাকে আঙুল দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাথরে সমুদ্রের জল ধাক্কা খেয়ে তা চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে দেখতে খুব ভালো লাগছিল।বিশাখাপত্নম এমন এক জায়গা যেখানে পাহাড় ও সমুদ্র দুটোই একসঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়।সৈকত বরাবর বড়ো বড়ো পাথর,সেইজন্য সব সৈকত আবার স্নানের জন্য উপযুক্ত নয়।আমরা পাথরের খাঁজে খাঁজে পেয়েছিলাম বড়ো কড়ি,ছোট কড়ি,বিভিন্ন রকমের আর রঙের সুন্দর সুন্দর ঝিনুক আর শামুক।এখনও অবধি সেগুলো আমার  কাছে সংরক্ষিত  আছে 'বিশাখাপত্নম স্মৃতি ' হিসাবে। সাধারণতঃ ঐসব জায়গায় স্থানীয় লোকজন না আসায় আমরা এগুলো পেয়েছিলাম।আমার সাথে সাথে অনেক ছাত্র-ছাত্রীও কড়ি ,ঝিনুক ,শামুক ইত্যাদি সংগ্রহ করেছিল।         প্রথমে তো আমরা সবাই খুব উৎসাহ নিয়ে মজা করে হাঁটা শুরু করেছিলাম,তবে সময়ের সাথে সাথে বালির উপর দিয়ে অতটা দূ্রত্ব অতিক্রম করার কষ্টটা টের পাচ্ছিলাম।কিছুটা দূরত্ব তাড়াতাড়ি করে পার করে,  পাথরের উপর বসে বিশ্রাম নিয়ে আবার চলা শুরু করছিলাম।পেছন থেকে গাইড এসে  উপদেশ দিলেন যে  এরকম না করে  সমগতিতে চললে ধীরে সুস্থে লক্ষ্যে  পৌঁছে যাওয়া যাবে।      (  ইনি ঐ দীর্ঘপথ কোথাও  একবারও  না বসে একভাবে হেঁটে অতিক্রম  করেছিলেন। )                           যে বাসটিতে করে আমরা টাউনশীপ থেকে  এসেছিলাম  সেটিও পাকা রাস্তা ধরে আমাদের সমান্তরালেই চলছিল, ড্রাইভার ভদ্রলোক মাঝে মাঝেই এসে আমাদের বলছিলেন যে কারো কোনো অসুবিধা হলে বাসে চলে আসতে।তবে আমাদের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই পায়ে হেঁটেই ভীমলিপত্নম পৌঁছেছিলাম। সতেরো শতকে পর্তুগীজদের এক প্রসিদ্ধ  বন্দর নগর ছিল  এই ভীমলিপত্নম।দূর্গ-সমাধিভূমির ধংসাবশেষ, পুরোনো লাইট হাউস একথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে পৌঁছে পর্তুগিজদের পরিত্যক্ত লাইটহাউস দেখে , ফটো সেশন করে আর একরাশ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে সন্ধ্যায় বাসে চেপে টাউনশীপে ফিরে আসি। 
এমন এক জীবনভোর মনে  রাখার মতো ট্রেকিং-এর ব‍্যবস্থা করার জন্য লায়ন্স ক্লাবের মেম্বারদেরও অনেক ধন্যবাদ জানাই।

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি  আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...