Wednesday, 14 April 2021

রাজস্থান ভ্রমণ- অষ্টম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ - অষ্টম পর্ব।
30শে ডিসেম্বর,2016.
পুষ্কর পরিক্রমা।
     আজমের ভ্রমণে যে অটোদাদা আমাদের সঙ্গী ছিলেন,ওনাকে আজমের বাসস্ট্যান্ডে বিদায় জানিয়ে  স্থানীয় বাসে চেপে বসলাম 14 কিমি দূরে  অবস্থিত পুষ্কর যাওয়ার  জন্য।
  আরাবল্লী পর্বতমালার নাগপাহাড় আজমের থেকে পুষ্করকে আলাদা করেছে। এখানে  পৌঁছে প্রথমেই গেলাম পুষ্কর সরোবর।     ( পুষ্কর হ্রদে নামার এক ঘাট।)                 সরোবরের চারপাশ সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো আর সর্বমোট বাহান্নটি ঘাট আছে।(পুষ্করের বাহান্নটি ঘাটের এক ঘাট।)চারপাশে  মন্দিরের  সংখ্যা  প্রায় পাঁচশ 'র বেশি। কয়েকজন  বয়স্ক ব‍্যক্তি ঘাটের উপর বসে  গল্প গুজব করছিলেন দেখে নতুন কোনো তথ্যের বা গল্পের আশায় আমার পতিদেবও তাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন আর তার শেষটা হলো  আমার  ছেলের মাধ্যমে আমাদের  পূর্বপুরুষদের পিণ্ডদান। ওনাদের কাছে সব রেডিমেড তৈরী থাকে  তাড়াতাড়ি সব ব‍্যবস্থা করে হয়ে গেল। (আমার ছেলের দাদু, ঠাকুর্দা ও অন‍্যান‍্য পূর্বপুরুষদের জল দান।)  এটা জানা ছিল যে স্নান, দান, তর্পণ, শ্রাদ্ধ, পারলৌকিক ক্রিয়া ইত্যাদিতে অক্ষয় ফল মেলে পুষ্করে কিন্তু  আমাদের  কোনো  পরিকল্পনা  ছিল না। অথচ কিভাবে সব হয়ে গেল। না ওনারা আমাদের থেকে অনেক টাকাপয়সাও কিছু দাবী করেননি অল্প কিছুই নিয়ে ছিলেন। এরপর ঘাটের ধারের আরো কিছু মন্দির ঘুরে  এসে পৌঁছালাম  ব্রহ্মা মন্দিরে। পূজোর ডালা নিয়ে  লাইনে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে তারপর ভগবানজীর মূর্তির সাথে দেখা হলো।( ডালা নিয়ে ব্রহ্মামন্দিরে যাবার লাইনে দাঁড়িয়ে। )এই মন্দিরের পেছনেই ছিল বেদমাতা গায়ত্রীদেবীর মন্দির ও এক শিব মন্দির।    (বেদমাতা গায়ত্রীর মন্দির।)
(সিঁদুরে লাল রঙের ব্রহ্মামন্দিরে আমি ছেলের  সাথে।)
  (  ব্রহ্মামন্দিরে ঢোকার প্রবেশপথ।)    ভক্তিভরে প্রণাম করে বেড়িয়ে আমরা  এলাম  পুষ্করের উঁটের মেলার মাঠ। প্রতিবছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমাতে এখানে পাঁচ দিন ধরে মেলা হয়। দূর -দূর থেকে বিক্রেতারা  এখানে উঁট নিয়ে বিক্রীর আশায় জমা হয়।      (সুসজ্জিত  উঁট ও উঁটের গাড়ি  সওয়ারীর অপেক্ষায়।)         এইসময় অনেক দেশী-বিদেশী পর্যটক  এই মেলা দেখে আনন্দ নিতে  আর পুষ্কর হ্রদে স্নান করে পুণ্য অর্জন করতে আসে।আমরা এখানে  হেঁটে হেঁটেই ঘুরছিলাম।  ব্রহ্মা মন্দিরে পূজার জন্য  আমরা  কেউই লান্চ করিনি টুকটাক মিষ্টি ফলমূল খেয়েই ছিলাম। এইবার  সকলের পেটে ইঁদুর লাফাতে শুরু করেছে তো আগে কিছু খেয়ে নেওয়া হলো। আমরা মেলার মাঠটি  পুরো একবার চক্কর দিলাম,কিছু সুন্দর ও সুসজ্জিত উটেরও দেখা পেলাম। আসলে এই মেলার কথা সংবাদপত্র, ম‍্যাগাজিন ও অন‍্য অনেক বই-এ অনেক  পড়েছি  তাই তার এক অন‍্য আকর্ষণ।  পুষ্করের দোকান থেকে স্মৃতি হিসাবে  কিছু  ওয়াল হ‍্যাংগিং,চাবির রিং ইত্যাদি কিনে  আজমের ফেরার বাস ধরার জন্য  রওনা দিলাম কারণ  দিনের আলো কমে আসছিল। আজমের ফিরে  খানিকক্ষণ  বিশ্রাম নিয়ে  রাতের খাবার  খেয়ে আবার বেরিয়ে ছিলাম।  সকালবেলায় দরগা যাওয়ার পথে  এই বাজারটার দোকান -পাট সব নজরে পড়ছিল কিন্তু সময়াভাবে আর যাওয়া হয়ে  ওঠে নি।রাত নটার সময় যখন  এই কথাটা  রিসেপসনে বলছিলাম  ওনারা  বল্লেন এখানে  দোকান  সারারাত ঘুমায় না। আপনারা  এখনো যেতে পারেন। ওনাদেরই একজন এসে কিছুটা  রাস্তা চিনিয়ে দিয়ে  ফিরে গেলেন। রঙবেরঙের চুড়ি, ওড়না, বাসনপত্র  সবকিছুই  খুব ভালো। হাঁটতে  হাঁটতে দরগার প্রবেশ পথের  সামনে অবধি গিয়েও রাত্রে  আর ঢোকার সাহস দেখাতে  পারলাম না। ঘড়ির কাঁটা  বারোর ঘর পার করে  গেছে  যদিও  বাজারে সন্ধ্যা ছটার ব‍্যস্ততা আমাদের হোটেলের দিকে  পা বাড়ানো  কাল সকালে  আমাদের  রাজস্থান ভ্রমণের সর্বশেষ  স্থান জয়পুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হবে।

Thursday, 8 April 2021

রাজস্থান ভ্রমণ-পঞ্চম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ - পঞ্চম পর্ব।যোধপুর শহর  পরিক্রমা।      28শে ডিসেম্বর  2016.     গতকাল রাত্রেই ফেরার সময় এক অটোচালক ভাইয়ের সাথে ঘোরার প্ল‍্যান হয়ে গেছিল। সকালে হোটেলের কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট করেই সাড়ে আটটা নাগাদ উমেদ ভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। যোধপুর শহরের প্রধান দ্রষ্টব‍্য স্থানগুলো হলো - উমেদ ভবন, মেহেরণ গড়, যশোবন্তধারা, মান্ডোর ও ঘন্টা  ঘর।                                      1) উমেদ ভবন  - 1929 সালে দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষদের কাজ দেওেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইতালীয় শৈলীতে গোলাপি পাথরের এই প্রাসাদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে 1942 সালে শেষ হয়। সেই সময়ের মহারাজ উমেদ সিংজীর নাম হিসাবে নাম হয় উমেদ ভবন। এখন 147টি ঘরের এই প্রাসাদের একভাগে  আছে  পাঁচতারা হেরিটেজ হোটেল, দ্বিতীয়ভাগে আছে  মিউজিয়াম  আর তৃতীয়ভাগে বাস করে  রাজপরিবার। মিউজিয়াম দেখার সময়  - সকাল নটা থেকে বিকেল পাঁচটা। প্রবেশ মূল‍্য ছিল - ত্রিশ টাকা। সোনায় মোড়া পৌরাণিক কাহিনী চিত্রিত দেওয়ান-ই-খাস,দেওয়ান-ই-আম, সিংহাসনের ঘর,বিভিন্ন রকম ঘড়ির সংগ্রহ -দেওয়াল ঘড়ি,টেবিল ঘড়ি,অস্ত্রশস্ত্র, আসবাবপত্র,পুরোনো মডেলের গাড়ি - সবই খুব ভালো লাগে।                       2 ) মেহেরণগড় - এটি 125 মিটার উঁচু গোদাগিরি টিলার  উপর অবস্থিত। 1459 খ্রীষ্টাব্দে মান্ডোর থেকে রাজ‍্যপাট তুলে  যোধা রাজ এখানে রাজধানী স্থাপন করেন। সাতটি বড়ো দরজা  পেরিয়ে গড়ে প্রবেশ করা গেল। পুরো গড়টায় মিউজিয়ামে  পরিবর্তিত হয়েছে। রুপোর হাওদা,পালকি,দোলনা, অস্ত্রশস্ত্র,বিলাস-ব‍্যসন -সবই তাদের শক্তি,ক্ষমতা আর ঐশ্বর্য‍্যের প্রতীক। ফুল মহলটি আশি কেজি সোনার পাত ও অন‍্যান‍্য দামী পাথর দিয়ে খুবই সুন্দরভাবে  অলংকৃত। দেওয়ান-ই-আম তথা মোতিমহলও খুব সুন্দর। সেখান থেকে বেড়িয়ে  আমরা গেলাম এই রাজাদের গৃহদেবতা চামুন্ডা দেবীর মন্দিরে। মন্দির থেকে বেড়িয়ে এলাম ক‍্যানন পয়েন্টে, অনেকগুলো কামান এখানে পরপর এমনভাবে সাজানো যেন সন্দেহজনক কিছু দেখলেই গোলা ছুঁড়বে। গড় থেকে  যোধপুর সত্যিই সুন্দর নীল শহর। গড়ের প্রবেশ মূল্য ছিল ষাট টাকা  আর ক‍্যামেরার জন্য একশটাকা।তবে প্রায় সবারই তো মোবাইল ফোন ক‍্যামেরাযুক্ত  তারজন‍্য কোনো অতিরিক্ত পয়সা লাগছিল না,এটাই বাঁচোয়া। আমরা অটোতে ফিরে এলে অটোচালক বলেছিলেন যে এই গড়ে আমরা বেশি সময় দিয়ে দিয়েছি। আমার  ছেলে  ওর বন্ধুদের সাথে লাইভ টেলিকাস্ট করতে গিয়ে  ফুলমহল ও মোতিমহলে খানিকটা দেরী করে পৌঁছায়। তার ফলে ঐ সুন্দর কারুকার্যমন্ডিত গড়/ রাজপ্রাসাদে আমরা একটু বেশী সময় ঘোরা  ও ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছিলাম। 3) ফোর্ট থেকে বেড়িয়ে আমরা গিয়েছিলাম যশোবন্ত থাডা। দ্বিতীয়  যশোবন্ত সিং এর স্মৃতিরক্ষার্থে শ্বেত পাথর দিয়ে  এই সৌধটি তৈরী হয়। এই সৌধের সামনেই অবস্থিত  রাজপরিবারের শ্মশান। পৃথিবীর বুকে  অন্তিম শয‍্যা নেওয়ার স্থানগুলোতে মন্দিরের মতো করে  অনেক সৌধ গড়ে  উঠেছে।                4) মান্ডোর-  মান্ডোর হলো  পুরোনো  রাজধানী। মান্ডোর থেকে রাজপাট যোধপুরে এসে  বসে। এখানকার রাজপ্রাসাদের একদমই ভগ্নদশা। তবে  মিউজিয়ামটা খুব ভালো। অনেক সুন্দর সুন্দর খেলনা,স্পেশাল মজার  আয়না, বিভিন্নরকম ট্রেন ইন্জিনের ছোট মডেল, এই জিনিসগুলো খুব নজর কেড়ে ছিল। আর দেখেছিলাম এক বড়ো শিব মন্দির।  মন্দিরের আশেপাশে অনেক বাঁদর ছিল   আর এক ভদ্রলোক  বড় এক ডেকচি রুটি ও এক বস্তা কলা নিয়ে  গাছের তলায় বসেছিলেন। বাঁদরগুলো  একজন  একজন করে  শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে রুটি ও কলা নিয়ে যেন লান্চ করতে যাচ্ছিল। আমরাও সেখান থেকে বেড়িয়ে খাবার জায়গা খুঁজতে লাগলাম কারণ পেটে তখন রীতিমতো ইঁদুর লাফাচ্ছে। অটোভাই এক ছোট হোটেলে নিয়ে গেল। দুজন  বয়স্ক ভদ্রলোক -ভদ্রমহিলা (স্বামী-স্ত্রী) হোটেলটি  চালায়। মেনু  ছিল রুটি, গাঁঠিয়ার সব্জী, ডাল-মাখানি আর লস‍্যি। সহজপাচ‍্য আর সুস্বাদু।  সেখান থেকে একটু দোকান -বাজার করার মন নিয়ে এলাম এক রাজস্থানী এম্পোরিয়ামে,কিন্তু দামে ছ‍্যাঁকা লাগায় কিছু না কিনেই  বেরিয়ে এলাম। পরবর্তী গন্তব্যস্থল হলো  ঘন্টাঘর।     5) এই ঘন্টা ঘর বা ক্লক টাওয়ারকে ঘিরে এক বড়ো  বাজার বসে। নানারকম জিনিসের সম্ভার। তারমধ‍্যে কাঁচের চুড়ি,লাক্ষার চুড়ি,মিনাকারী চুড়ি,ব্রেসলেট, কানের দুল,এমব্রয়ডারি করা  ড্রেস মেটেরিয়াল,চটি, জুতো  সবই মনে হচ্ছিল কিনে নিই। দামও যথেষ্ট ঠিকঠাক মনে  হওয়ায় ব‍্যগ খানিকটা ভর্তি করার ব‍্যবস্থা করা গেছিল।আমার কাছে বেড়ানোর  সাথে স্থানীয় প্রসিদ্ধ শিল্পসামগ্রী কেনাকাটা করাও একটা ভালোলাগার বিষয়। অটোভাইয়ের তাড়াতে বাজার থেকে বেরিয়ে এসে মনে হচ্ছিল   আর একটু থাকতে পারলে যেন ভালো হতো। কবিগুরু  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  ছোটোগল্পের মতো -শেষ হয়েও হয়লো না শেষ। এরপর  হোটেলে ফিরে  একটু বিশ্রাম করে  জিনিসপত্র গুছিয়ে রাত আটটায় আবার পরের গন্তব্য উদয়পুরের বাস ধরার জন্য বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আসা।

Wednesday, 7 April 2021

রাজস্থান ভ্রমণ- সপ্তম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ - সপ্তম পর্ব।       
  30শে ডিসেম্বর,2016. 
          আজমের  পরিক্রমা।     
   উদয়পুর থেকে আজমেরের দূরত্ব প্রায়  264 কিমি। এই দূরত্ব  প্রায় ছঘন্টায় অতিক্রম করে রাত তিনটের সময়  আমরা আজমের স্টেশনে। এখানেও আমরা আগে থেকে হোটেল বুক করি নি। উদয়পুরে যে ছেলেটি তার অটো করে  আমাদের বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়েছে তার বাড়ী আজমের  তার বাবারও অটো  আছে।সে তার বাবার সাথে আমাদের যোগাযোগ করিয়ে  দিয়েছিল। উনি স্টেশনে এসে প্রথমে আমার পতিদেবকে ওনার  এক পরিচিত হোটেল দেখাতে  নিয়ে যান,আমরা খানিকক্ষণ স্টেশনেই অপেক্ষা  করি। তারপর আবার ওই হোটেলে  গিয়ে  উঠি। উনি  আবার আটটার সময় আসবেন কথা দিয়ে বাড়ী ফিরে যান। এই প্রসঙ্গে দুটি  কথা  বলি। এক আজমের স্টেশনে রাত তিনটের সময় এত জনসমাগম দেখে সত্যি খুব  অবাক হয়েছিলাম আর হোটেলটিরও অবস্থা  তায় ছিল।চারিদিকে লোক নামছে উঠছে,গমগম করছে। দুই  আমাদের  এই যাত্রাপথে যে ছোট গাড়ী ও তার  সারথীদের আমরা পেয়েছি  সবার  ছিল  অমায়িক ব‍্যবহার ও সাহায্যকারী মনোভাব। তাদের সহায়তা  আমাদের  এই ট‍্যুরটাকে সাফল্যমন্ডিত করতে অনেকখানি সাহায্য করেছে। এখন সকাল হতে  অনেকখানি দেরী,তাই সবাই  আবার  একটু  গড়িয়ে নিলাম। সাতটা  বাজতেই  স্নান করে আজমের-শরীফ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে  নিলাম। এখানে  সেলিম  চিস্তিরের দরগা আছে,যেটি হিন্দু -মুসলিম নির্বিশেষে সমস্ত তীর্থযাত্রী অনেক পবিত্র  বলে মনে  করে। এই দরগার প্রথম ভাগটি তেরোশ সালে তৈরী হয়। মুঘল বাদশাহ  আকবরও  এখানে  আসতেন। প্রবেশ পথের  কাছেই খাবার রান্না করার দুটো  বড়ো বড়ো হাঁড়ি  রাখা  আছে। যার একটি  বাদশাহ আকবর ও অন‍্যটি জাহাঙ্গীরের দান। পাশেই  আকবর ও শাহজাহান এই  দুই  বাদশাহের বানানো মসজিদও আছে। আমরাও  ভক্তিভরে দরগার উপর কাপড় চড়িয়ে ফুল ছড়িয়েছিলাম। আমরা গোলাপফুল পূজায় ব‍্যবহার করি না। আর এখানে  নজর কাড়ছিল দোকানে দোকানে লাল-সাদা গোলাপে সাজানো ফুলের ডালা। দরগায় ঢোকার  তোরণটি হায়দ্রাবাদের নিজাম  বানিয়ে দিয়েছিলেন।   ( মাজারে যাওয়ার আগে  ফুলের ডালি ও চাদর হাতে।)(   দরগায় ঢোকার প্রধান প্রবেশ পথ।)   আজমের শহর  ছিল  চৌহান রাজবংশের অন‍্যতম কেন্দ্র। মহম্মদ ঘোরীর কাছে পৃথ্বীরাজ চৌহানের  হারের পর বদলে যেতে থাকে এই শহরের ইতিহাস। পাহাড়ের উপর অবস্থিত চৌহান বংশের তৈরী  তারাগড়  দূর্গ সময়ের অভাবে আর যাওয়া হয়ে ওঠে   নি। নীচ থেকে  তার প্রাচীর দেখেই  অন্য গন্ত‍ব‍্যের জন্য  রওনা দিয়েছিলাম কারণ এখনো পুষ্কর দেখা  বাকী।এরপর আমরা একেএকে গেলাম  আন্নাসাগর হ্রদ,মিউজিয়াম ও  লাল পাথরের  তৈরী দিগম্বর জৈন মন্দির।                                আন্নাসাগর হ্রদ - আজমের শহরের পশ্চিমে দুই পাহাড়ের মাঝে লুনী নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরী হয়েছে  এই কৃত্রিম হ্রদ। এর রূপে মুগ্ধ হয়ে তার স্মৃতিটুকু ধরে  রাখার জন্য কিছু ছবি তোলা হলো। 
(আন্নাসাগর হ্রদ।) এরপর  পৌঁছে গেলাম  মিউজিয়ামে,যেটি আগে নাকি  ছিল সম্রাট আকবরের প্রাসাদ।                          তারপর পৌঁছে গেলাম লাল পাথরের তৈরী দিগম্বর জৈন মন্দির।দোতলার জানালা  দিয়ে  ভেতরে  তাকিয়ে  প্রথমটায় অবাক হওয়ার  পালা।প্রথমে যেন কি দেখছি বুঝতেই পারছিলাম না।পরে পাশে  রাখা  বোর্ড  পড়ে  বুঝলাম যে সুন্দর কারুকার্যময় বিশাল বড়ো এই  হলঘরে 1000কেজি সোনায় গিলটি করা কাঠের মডেলে প্রথম জৈন তীর্থঙ্কর আদিনাথ বা ঋষভদেবের জন্ম-ক্রমবিকাশ ও জৈন মিথোলজি প্রদর্শিত হয়েছে।
( জৈন মন্দির -কাঠের উপর সোনার গিল্টি করা )   এইসব জায়গাগুলো  আমরা দুপুর বারোটার মধ্যেই দেখে নিয়ে  আজমের বাসস্ট্যান্ডে চলে এলাম।এখান  থেকে  14 কিমি দূরে অবস্থিত পুষ্কর যাওয়ার জন‍্য। সেই  গল্প  আবার  পরের পর্বে।
মিউজিয়ামে লক্ষী-নারায়ণের মূর্তি।

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি  আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...