Monday, 28 December 2020

দার্জিলিং ভ্রমণের অন্তিম পর্ব।


এরপর প্রায়দিনই আমরা বিকেলে কোনো চা-বাগান ঘুরে ম‍্যালে গিয়ে বসে থাকতাম। দোকানপাট, রঙবেরঙের সোয়েটার পরা লোকজন আর সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা অন‍্যরকম এক আবেশ তৈরী করতো।রোজ কিছু  কিছু করে কেনাকাটাও চলতো। টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখা  দার্জিলিং -এর এক অন‍্যতম আকর্ষণ তবে  এটি  আমাদের আর যাওয়া হয় নি।যেদিন আমাদের যাওয়ার কথা ঠিক হলো সেদিন থেকেই  সূর্যদেবের মুখ  ভার হলো। কোয়ার্টারের পাশেই আমাদের ট‍্যুরের দায়িত্বের গাড়িদাজুর বাড়ি ছিল ,তিনি ভোরবেলা বলে গেলেন  মেঘলা আকাশ কিছুই দেখা যাবে না। সেইজন‍্য ঐ পরিকল্পনাটা আর  সফল হয় নি। অবশ‍্য আমার  বাড়ির  পুরুষগণ  খুশীই হয়েছিল যে ঠান্ডায় আর লেপ-কম্বলের মায়া ত‍্যাগ করে উঠতে হয় নি।  দার্জিলিং -এ খুব আনন্দে কাটানো  ওই দশ-বারো দিনের  স্মৃতি মনের  মধ্যে খুব উজ্জ্বলভাবে বিরাজমান।

Sunday, 27 December 2020

দার্জিলিং ভ্রমণের পঞ্চম পর্ব।

আজ সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। যে কোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে। এইসব  সাত-পাঁচ ভেবে ছেলেকে  বাড়ীতে রেখে আমরা দুজনা গেলাম ম‍্যালের সামনে অবস্থিত মহাকালের মন্দির। এটি  নাকি  অতীতে ভুটিয়া মনাস্ট্রি ছিল, ঊনিশ শতকে সেটি ধ্বংস হলে সেখানে এই শিব মন্দিরটি গড়ে উঠেছে। মন্দিরে উঠতে  উঠতে  দেখলাম অজস্র রঙ-বেরঙের  প্রেয়ার ফ্ল‍্যাগ আর বানরের দৌরাত্ম্যি। শিবঠাকুরের কাছে মাথা ঠুঁকে আর চারপাশে আরও সব ঠাকুর দেখে ম‍্যালে নেমে আসা।এদিক-ওদিক ঘুরে ও কিছু কেনাকাটা করে ঘরে ফিরে আসা।

Monday, 21 December 2020

দার্জিলিং ভ্রমণের চতুর্থ পর্ব।

(লেবং -এর পথে  ঢেঁকি শাক /ফার্ন গাছের নীচে ছবির জন্য দাঁড়ানো।)                                সকালের দিকে  আমরা জা-এর সঙ্গে কখনও সব্জীবাজার,মাছের বাজার বা মুদিখানার দোকানেও যেতাম।গ্ল‍্যানারিসের বেকারি বিস্কুট বিশেষ করে জিনজার বিস্কুট  তো আমার  ভীষণ প্রিয় ছিল।স্বপ্নের দার্জিলিং -এর পাহাড়ি রাস্তায়  হাঁটতেই ভালো লাগতো।                              বিকেলে  আমরা সবাই মিলে দার্জিলিং গভর্মেন্ট কলেজ হয়ে লেবং -এর দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। লেবং সর্বোচ্চ রেসকোর্সের জন্য বিখ্যাত। আমাদের কোয়ার্টার থেকে প্রায় সাত-আট কিমি দূর। পথে যেতে  যেতে দার্জিলিং -এর বেশ কিছু নামকরা আবাসিক মিশনারী স্কুলগুলো দেখে নিলাম। গেটের বাইরে থেকেই উঁকি দিয়ে দেখলাম বাচ্চারা সব মাঠে খেলছে। তারপর আবার এগিয়ে চললাম।চলার পথের দুধারের দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। এভাবেই অবসারভেশন পয়েন্টে প‍ৌঁছে উঁচু থেকে লেবং-এর রেসের মাঠ দেখে আবার ফেরার জন্য পা বাড়ালাম।

Saturday, 19 December 2020

দার্জিলিং ভ্রমণের তৃতীয় পর্ব।

চতুর্থদিন সকালে উঠে  আমরা  মানে  আমি, আমার ছেলে  ও স্বামী গেলাম তেনজিং নোরগে মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট দেখতে। স্বাধীনতার পর  পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ‍্যমন্ত্রী বিধান  চন্দ্র রায় 1954 সালে পাহাড়ে চড়ার শিক্ষার দেওয়ার জন্য এটা স্থাপনা করেন।প্রথম ভারতীয়  এভারেস্ট জয়ী তেনজিং  নোরগে এইখানে শিক্ষকতা করেছেন। পরবর্তীকালে উত্তর কাশী,মানালি ও কাশ্মীরেও এইরকম ইনস্টিটিউট খোলা হয়েছে। পাহাড়ে চড়ার প্রণালী ও সাজ-সরঞ্জামের সাথে 1857 সাল থেকে  এভারেস্ট  সহ আরো  নানান  হিমালয়ের শিখর অভিযান পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে ইনস্টিটিউটের এভারেস্ট মিউজিয়ামে। এখানকার  উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংগ্রহও  উল্লেখযোগ্য। ফিল্ম শো ছাড়াও নেপালের মহারাজাকে Adlof Hitlar-এর উপহার  টেলিস্কোপে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে নেওয়া যায়।                মাউন্টনিয়ারিং ইনস্টিটিউট লাগোয়া গড়ে উঠেছে পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক‍্যাল পার্ক তথা চিড়িয়াখানা। হিমালয়ান ব্ল‍্যাক বিয়ার,লেপার্ড,হরিণ, টাইগার অনেক কিছু নিয়েই ভালোলাগা আছে। আমার বেশ মনে আছে  এক লেপার্ডের খাঁচার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য  প্রস্তুত হচ্ছিলাম,খাঁচার ওপারে থাকা একটা  লেপার্ড হঠাৎ এমনভাবে খাঁচার কাছে এসে  ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যে ভয়ে  আমি প্রায়  ছেলেকে নিয়ে উল্টে পড়ে  যাচ্ছিলাম আমার হাজব‍্যান্ড ক‍্যামেরা ছেড়ে তাড়াতাড়ি ধরে নেওয়াই   আমরা  পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায় কিন্তু  আমার ছেলে ভয়ে কাঁদতে শুরু করে। ওই ছোট ছেলে আর খাঁচার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে  না  ফটো তোলার জন্য। ঐদিন স্থানীয় কোনো প্রায়মারী স্কুলের বাচ্চারা এসেছিল চিড়িয়াখানা দেখতে। শীতের পোশাকে সজ্জিত  বাচ্চাগুলোর কলতান চারদিককে আরো মুখরিত করে তুলেছিল।

Monday, 7 December 2020

দার্জিলিং ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্ব।

             (পেছনে কাঞ্চনজঙ্ঘা উঁকি দিচ্ছে।)       দার্জিলিং পৌঁছে  প্রথমদিন তো ঘরে বসে গল্প করে  আর খেয়ে -দেয়ে কাটালাম। পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখলাম ঝকঝকে  আকাশ রৌদ্রৌজ্জ্বল দিন। তাড়াতাড়ি  চা খেয়েই  প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উত্তেজনায় কোয়ার্টারের পিছনে  রাস্তার উল্টোদিকে অবস্থিত শ্রাবেরী পার্কে এসে  পৌঁছেছিলাম।এখন এই পার্কের নাম হয়েছে  নাইট‍্যাঙ্গেল পার্ক। এখান থেকে রজতশুভ্র বরফে আচ্ছাদিত কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখে মুগ্ধ হলাম। খানিকক্ষণ  ওনার সামনে বসে থেকে তারপর পর্যটকদের  আনাগোনা দেখে কোয়ার্টারে ফিরে  এসেছিলাম।                   বিকেলবেলা পায়ে হেঁটে প্রথম দিন শান্তিস্তুপের দিকে  গিয়েছিলাম।যাওয়ার পথে  প্রথমে দেখেছিলাম  গোর্খা মঞ্চ ভবন।  আমাদের  কাছে  উল্লেখযোগ্য  ছিল  কারণ এই মঞ্চে   আমার  জা ও দেওর দুজনেই সংগীত পরিবেশন করতো।তারপর পথে  পড়লো সেই  বিখ্যাত লালকুঠি,যেটা তখন  সবুজ কুঠিতে পরিণত  হয়েছিল। একসময়  লালকুঠি ছিল  কোচবিহার রাজাদের গ্রীষ্মাবাস,পরে সেটি দার্জিলিং পার্বত্য পরিষদ  বা হিল কাউন্সিলের অফিসে পরিবর্তিত হয়েছিল।                  ( পেছনে   লাল কুঠি  )             কিছুটা  সময় শান্তিস্তুপে  থেকে আর চারিদিক ঘুরে আমরা  এসেছিলাম অনেক  সিনেমায় দেখা আর গল্পে শোনার  জায়গা  ম‍্যালে।শান্তিস্তুপ আসা-যাওয়ার পথের সৌন্দর্য‍্য ভীষণভাবে  উপভোগ  করেছিলাম।ম‍্যাল থেকে আবার কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন পেয়ে  মোহিত হওয়া আর এদিকে সেদিকে তিব্বতীয় দোকান,উলেন বস্ত্রের দোকান ঘুরে স্ট্রীট লাইট জ্বলে উঠলে আর ঠান্ডা টা একটু বাড়লে  আবার পায়ে পায়ে ঘরে ফিরে আসা।        (কখনও বাবার কাঁধে চড়ে  আবার  কখনও মা,ঠাম্মা,কাম্মা ও কাকুর কোলে করে  আমার  তখন  দশমাসের ছেলের  পাহাড়ে ঘোরা।)    তৃতীয়দিন গিয়েছিলাম  Sir Ashley  Eden -এর গড়া লয়েড  বোটানিক‍্যাল গার্ডেন। অনেক  অনেকরকম ফুল,অর্কিড,ক‍্যাকটাস,মেডিসিনাল গাছগাছালি -সিঙ্কোনা গাছ ইত্যাদি পরিবেশকে মধুময় করে  রেখেছে। বিজ্ঞানের বইয়ে  গ্রীনহাউস সম্বন্ধে অনেক  পড়লেও এখানেই প্রথম দেখা পায় সেই   গ্রীনহাউসের। আবার  এখানেই  সবুজের সমারোহে গীটার হাতে স্থানীয়ছেলে মনের  সুখে গান গাইছে দেখলাম  ও শুনলাম। আমরা  যখন  গান  শুনতে ব‍্যস্ত তখন দেখি আমার  দশ মাস বয়সের ছেলে  যে তখনও দাঁড়াতে  শেখে নি তাকে ফুলের মাঝে  দাঁড়  করিয়ে তার বাবা  ফটো তোলার চেষ্টা    করে  যাচ্ছে  কারণ ঘাস এত ই নরম যে  পড়ে  গেলে ব‍্যথা পাবে না। তারপর আবার ঘরে  ফেরা।

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি  আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...