Wednesday, 17 March 2021

রাজস্থান ভ্রমণের চতুর্থ পর্ব।

চতুর্থ পর্ব - জয়শলমীর থেকে যোধপুর  যাওয়ার বিবরণ।               27শে ডিসেম্বর                   ভোর সাড়ে চারটের সময়  তাঁবুর ঘরের  নরম গদি ও কম্বল ছেড়ে যোধপুর যাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে নিলাম আর পাঁচটার মধ্যে  জয়শলমীর স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলাম।তাঁবুর ঘরের সকালের চা-জলখাবার আর আস্বাদন করা হলো না। আমরা  একঘণ্টার মধ্যেই  (6টা) স্টেশনে পৌঁছে গেছিলাম। সকাল 6 টা 45 এর জয়শলমীর - যোধপুর এক্সপ্রেসের টিকিট  কাটা হলো। এরপর কাল ভোর থেকে যে বোলেরো ও তার সারথী রেখা আমাদের  সাথে ছিল তাদেরকে  বিদায়  জানানো হলো। ড্রাইভার ভদ্রলোক ভীষণই ভদ্র  ও সময়ে পাক্কা ছিলেন।                           ট্রেনটি অবশেষে পোনে সাতটার বদলে সাড়ে সাতটায় স্টেশনের মায়া ত‍্যাগ করে যোধপুরের দিকে রওনা দিল।জয়শলমীর ভারতবর্ষের  একদম পশ্চিম  প্রান্তে হওয়ায়   শীতকালে  সূর্যদেবের দেখা প্রায়  সাড়ে  সাতটার পর পাওয়া গেল। ট্রেন প্রায় ফাঁকা ছিল। রেললাইনের দুধারে কোনো জনবসতি চোখে  পড়ছিল না। প্রায় এক-দেড় ঘন্টা দৌড়ানোর পরে কোনো  স্টেশনে এসে আমাদের ট্রেনটা দম নিচ্ছিল।  আমাদের  সহযাত্রী ছিল দুটি  ছোট ফুটফুটে মেয়ে সমেত উত্তরপ্রদেশের এক মিলিটারি পরিবার। তারা  চাকুরী সূত্রে জয়শলমীরে থাকে। সেদিন তারা রামবাবার( স্থানীয় ভগবান )কাছে পূজো দিতে যাচ্ছিল। তাদের থেকেও এখানকার  জীবিকা-জীবন নিয়ে  অনেক  ইনফরমেশন পেলাম। বৃষ্টি  কেমন  হয়,গরমে জলের  অভাব হয় নাকি -  এইসব আমারও কিছু প্রশ্ন ছিল। তার উত্তরে জানলাম 2016 র বর্ষাকালে একদিন  খুব ঝমঝমিয়ে  আর একদিন  এমন বৃষ্টি হয়েছিল যে মাটিও ভেজেনি।ঘন্টাখানেক পরেই গন্তব্যস্থল  এসে পড়ায় তারা নেমে পড়ে।এরপর আমরা  এসে পৌঁছায় ভারতের বিখ্যাত  পরমাণুপরীক্ষা কেন্দ্র পোখরান স্টেশনে। ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকার ফাঁকে  সিমলা মির্চ ও ব‍েসন দিয়ে তৈরী পকৌড়া খেয়ে জলখাবার পর্ব সমাপ্ত করা হলো।                             অবশেষে সকাল 11:30 তে ট্রেন পৌঁছাল যোধপুরে। আমরা আগের দিন OYO- এর মাধ্যমে যে  হোটেলটি  বুক করেছিলাম সেটি যোধপুর  স্টেডিয়ামের একদম কাছেই ছিল। হোটেলে পৌঁছে  স্নান করে কাছেই এক হোটেলে  গিয়ে সুস্বাদু রাজস্থানী থালী দিয়ে  লান্চ সাঙ্গ করা হলো।কমপ্লিমেন্টরি কুলফিটাও খুব ভালো ছিল।ওই হোটেলের  কাছেই  এক বড়ো  মেলা চলছিল।আমরাও ঢুকে পড়লাম। এদিকে  ওদিকে ঘুরে  একটা কুর্তিও কিনে  ফেললাম। এখানে  সূর্য অস্ত যায়  দেরী করে,হাতে এখনো সময়  আছে। স্থানীয় লোকজনের কাছে জেনে কাছেই  পাহাড়ের ওপর অবস্থিত বীর দূর্গাদাস রাঠোর পার্কে অটো করে  ঘুরতে  গেলাম। পাহাড়ের ওপর  থেকে যোধপুর শহরটা খুব সুন্দর দেখা যায় আর ভালো  লেগেছিল  পেছনের পাহাড়ের  কোলে সূর্যাস্ত। পার্কটির প্রবেশমূল‍্য ছিল  দশটাকা। ওখানে পার্কে ঘুরতে  আসা এক পরিবারের  সঙ্গে পরিচয় হয়। ফেরার সময় তারা  আমাদের গাড়ী করে হোটেলের  সামনে  নামিয়ে  দিয়ে  গেছিল। এরপর চা খেয়ে শুরু হলো  রাত্রের শহরের রূপ অবলোকন করা।দশটা নাগাদ  একদম ডিনার সেরে  অস্থায়ী নীড়ে ফেরা। ডায়েরী লিখতে হবে,তারপর কাল সকালে উঠে যোধপুরের  বিশেষ দ্রষ্টব‍্যগুলো দেখতে  বেড়োতে হবে।পরের পর্ব যোধপুর ভ্রমণ।

No comments:

Post a Comment

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি  আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...