আমি ঘুরতে খুব ভালোবাসি। এটা আমার বাবার কাছ থেকে বোধ হয় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। বাবা ,প্রায় প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় অথবা বার্ষিক পরীক্ষার শেষে ডিসেম্বর মাসে কখনো কাছে পিঠে কোথাও ,কখনো বা দূরের কোনো রাজ্যের জায়গা গুলি ঘোরাতে নিয়ে যেতেন। বিয়ের পর আমার স্বামীরও বদলির চাকরি হওয়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সুযোগ পেয়েছি। আমি সেগুলিকে এখানে পর্যায়ক্রমে চিত্র সহযোগে লিখতে চলেছি। যাতে পাঠক কুলও এই জায়গা সম্বন্ধে জানতে পারেন এবং এই জায়গার বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা দেখার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
Wednesday, 18 November 2020
ঘুমের দেশে হারিয়ে যাওয়া।
দার্জিলিং -এর ঘুম (ভারতের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন ) ঘুরতে যাওয়ার গল্প। আমার এই প্রায় 53বছরের জীবনে একবারই মাত্র দার্জিলিং যাবার সৌভাগ্য হয়েছে, তাও প্রায় 27 বছর আগে 1994সালের মে মাসে।তার আগে অবশ্য বাবা-মায়ের সাথে বেশ কয়েকবার দার্জিলিং যাবার প্ল্যান হয়েছে আর পরে তা ভীষণ ভাবে ভেস্তে গিয়েছে।একবার তো বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়েও যাওয়া হয় নি।এখন আবার কয়েক বছর থেকেই আমার দার্জিলিং যাবার জন্য মন কেমন করছে।বিশেষতঃ শীতের দার্জিলিং দেখার শখ জেগেছে মনে। খুব শীত মানে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে তো যেতে পারব না কারণ আমি হাঁপানি রোগী, তাই নভেম্বরে যাওয়ার ইচ্ছা রাখি কিন্তু কবে তা পূরণ হবে জানি না।যাইহোক কদিন থেকে সোশাল মিডিয়ায় স্লিপিং বুদ্ধ মানে কান্চ্ঞনজঙ্ঘার ফটো দেখে দেখে মনে হলো আমিও কেন দিব্য চোখে না হয়, মানস চক্ষ্যেই দার্জিলিং ভ্রমণের আস্বাদ নিই না।কোনো ভ্রমণ কাহিনী লিখতে বসলে আর সেইসময়ের তোলা ছবিগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে থাকলে মনে হয় আমি যেন সেই জায়গাতেই পৌঁছে গেছি।সেই ভ্রমণের স্বাদ আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করছি। দার্জিলিং ছিল আমার দেওরের কর্মক্ষেত্র, সে ওখানকার গভর্নমেন্ট কলেজের শিক্ষক ছিলেন।তাই আমরা যখন গ্রীষ্মের ছুটিতে বিশাখাপতনম থেকে মুর্শিদাবাদের বাড়ী ফিরলাম তার তো ছুটি নেই। তাদের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি তিনমাস শীতের ছুটি থাকতো। এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো আমরাই দার্জিলিং রওনা হলাম।এই একই কারণবশতঃ আমার পতিদেবের অবশ্য বার দুয়েক এই গ্রীষ্মাবকাশেই দার্জিলিং ঘোরা হয়ে গেছে।দশমাসের ছেলেকে নিয়ে তিস্তা-তোর্সা ট্রেনে চেপে ভালোভাবেই দেওরের কলেজ স্টাফ কোয়ার্টারে গিয়ে পৌঁছলাম।আমার শাশুড়ীমাও তখন ওখানে ছিলেন, সুতরাং আনন্দ আরো দ্বিগুণ হলো।আবহাওয়া খুব ভালো ছিল।আমরা প্রতিদিন দুপুরে তাড়াতাড়ি খাওয়া-দাওয়া করে দেওর কলেজ থেকে ফিরলে একসাথে পায়ে হেঁটে বেড়াতে বেড়োতাম। আজ ঘুম বেড়াতে যাবার গল্প বলবো।। কদিন ধরেই টয়ট্রেনে চেপে ঘুম যাওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে।আমার শাশুড়ীমা ও পতিদেবও এতবার দার্জিলিং এলেও কখনও ভারতের সর্বোচ্চ রেলওয়ে স্টেশন ঘুমে পদার্পণ করে নি।এরপর কয়েকদিন ধরেই এটা হলো যে আমরা যখন তৈরী হয়ে ঘর থেকে বাইরে পা রাখছি, দেখি ট্রেনটা ধোঁয়া ছেড়ে স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, মানে কোয়ার্টার থেকেই এটা দেখা যেত।এবার অন্য কোনো দ্রষ্টব্য স্থান দেখার জন্য রওনা দিতাম।একদিন ঠিক হলো যে ঐদিন ঘুম যাবই আর টয়ট্রেন চেপেই যাব।আমরা আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে থাকলাম,কলেজ থেকে দেওর ফিরলে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম। স্টেশনে এসে দেখি প্রচন্ড ভীড়,ট্রেনে পা দেওয়ার জায়গা নেই আর আমার জা ছিল তখন সন্তান সম্ভবা। এত ভীড়ে তো উঠতে পারব না। এজানালা-ওজানালা দিয়ে জায়গা করার চেষ্টা করলাম কোনো ফল হলো না। কোই পরোয়া নেহি,কাল আবার চেষ্টা করবো,আরো তাড়াতাড়ি আসবো ভেবে দাঁড়িয়ে থাকলাম।ট্রেন ছেড়ে গেলে আমাদের অন্য জায়গা ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান হলো।ট্রেন যথারীতি ছেড়ে দিলো, কিন্তু কিছুটা গিয়ে আর নড়ে না মানে নড়তে পারছে না। ট্রেনে এতো ভীড় হয়েছে যে ইন্জিন আর টানতে পারছে না।ট্রেন আর যাবে না ভেবে অনেক পর্যটক নেমে গেল আর ট্রেনটাও বেশ ফাঁকা হয়ে গেল।সেই সুযোগে আমরাও ট্রেনে উঠে পড়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম যদি ট্রেনটা আবার ছাড়ে। আমাদের তো কোন তাড়াহুড়ো নেই যতদিন মনে হবে এখানে থাকবো তারপর শিলিগুড়িতে নেমে বাস ধরে বাড়ী ফিরে যাব। সত্যি এবার ট্রেনটা নড়ে উঠলো আর চলতে শুরু করলো।আর আমরাও সবাই হৈ-হৈ করে উঠলাম।ট্রেন থেকে বাইরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম।মাঝে পড়ল বাতাসিয়া লুপ।বাতাসিয়া লুপের ফটো তোলার জন্য আমার হাজব্যান্ড তো ট্রেন থেকে নেমে আবার খানিকটা গিয়ে দৌড়ে উঠে পড়লো।অবশেষে ভারতের সর্বোচ্চ স্টেশন ঘুমে এসে পৌঁছলাম। ওখান থেকে তিব্বতীয় বুদ্ধিস্ট মনস্ট্রী দেখতে গেলাম।প্রায় পাঁচ মিটার উঁচু বুদ্ধদেবের শান্ত -স্নিগ্ধ মূর্তি। সিলিংএর পেন্টিংও মন ভরিয়ে দিল।তারপর এদিক-ওদিক ঘুরে গাড়ীভাড়া করে একরাশ ভালোলাগা সঙ্গী করে সন্ধ্যেবেলা বাড়ী ফেরা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...
-
তৃতীয় পর্ব। (বালির ওপরে এই বড়ো পোকার দরুণ মূর্ত হওয়া ডিজাইন।) ২৬শে ডিসেম্ব...
-
উদয়পুর শহর পরিক্রমা। 29শে ডিসেম্বর,2016. ভোর সাড়ে চারটের সময় আমরা উদয়পুর বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস থেকে নামল...
-
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...
Excellent expression....👌👌
ReplyDeleteKhub sundor laglo......👌👌
ReplyDelete