আমি ঘুরতে খুব ভালোবাসি। এটা আমার বাবার কাছ থেকে বোধ হয় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। বাবা ,প্রায় প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় অথবা বার্ষিক পরীক্ষার শেষে ডিসেম্বর মাসে কখনো কাছে পিঠে কোথাও ,কখনো বা দূরের কোনো রাজ্যের জায়গা গুলি ঘোরাতে নিয়ে যেতেন। বিয়ের পর আমার স্বামীরও বদলির চাকরি হওয়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সুযোগ পেয়েছি। আমি সেগুলিকে এখানে পর্যায়ক্রমে চিত্র সহযোগে লিখতে চলেছি। যাতে পাঠক কুলও এই জায়গা সম্বন্ধে জানতে পারেন এবং এই জায়গার বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা দেখার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
Monday, 7 December 2020
দার্জিলিং ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্ব।
(পেছনে কাঞ্চনজঙ্ঘা উঁকি দিচ্ছে।) দার্জিলিং পৌঁছে প্রথমদিন তো ঘরে বসে গল্প করে আর খেয়ে -দেয়ে কাটালাম। পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখলাম ঝকঝকে আকাশ রৌদ্রৌজ্জ্বল দিন। তাড়াতাড়ি চা খেয়েই প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উত্তেজনায় কোয়ার্টারের পিছনে রাস্তার উল্টোদিকে অবস্থিত শ্রাবেরী পার্কে এসে পৌঁছেছিলাম।এখন এই পার্কের নাম হয়েছে নাইট্যাঙ্গেল পার্ক। এখান থেকে রজতশুভ্র বরফে আচ্ছাদিত কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখে মুগ্ধ হলাম। খানিকক্ষণ ওনার সামনে বসে থেকে তারপর পর্যটকদের আনাগোনা দেখে কোয়ার্টারে ফিরে এসেছিলাম। বিকেলবেলা পায়ে হেঁটে প্রথম দিন শান্তিস্তুপের দিকে গিয়েছিলাম।যাওয়ার পথে প্রথমে দেখেছিলাম গোর্খা মঞ্চ ভবন। আমাদের কাছে উল্লেখযোগ্য ছিল কারণ এই মঞ্চে আমার জা ও দেওর দুজনেই সংগীত পরিবেশন করতো।তারপর পথে পড়লো সেই বিখ্যাত লালকুঠি,যেটা তখন সবুজ কুঠিতে পরিণত হয়েছিল। একসময় লালকুঠি ছিল কোচবিহার রাজাদের গ্রীষ্মাবাস,পরে সেটি দার্জিলিং পার্বত্য পরিষদ বা হিল কাউন্সিলের অফিসে পরিবর্তিত হয়েছিল। ( পেছনে লাল কুঠি ) কিছুটা সময় শান্তিস্তুপে থেকে আর চারিদিক ঘুরে আমরা এসেছিলাম অনেক সিনেমায় দেখা আর গল্পে শোনার জায়গা ম্যালে।শান্তিস্তুপ আসা-যাওয়ার পথের সৌন্দর্য্য ভীষণভাবে উপভোগ করেছিলাম।ম্যাল থেকে আবার কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন পেয়ে মোহিত হওয়া আর এদিকে সেদিকে তিব্বতীয় দোকান,উলেন বস্ত্রের দোকান ঘুরে স্ট্রীট লাইট জ্বলে উঠলে আর ঠান্ডা টা একটু বাড়লে আবার পায়ে পায়ে ঘরে ফিরে আসা। (কখনও বাবার কাঁধে চড়ে আবার কখনও মা,ঠাম্মা,কাম্মা ও কাকুর কোলে করে আমার তখন দশমাসের ছেলের পাহাড়ে ঘোরা।) তৃতীয়দিন গিয়েছিলাম Sir Ashley Eden -এর গড়া লয়েড বোটানিক্যাল গার্ডেন। অনেক অনেকরকম ফুল,অর্কিড,ক্যাকটাস,মেডিসিনাল গাছগাছালি -সিঙ্কোনা গাছ ইত্যাদি পরিবেশকে মধুময় করে রেখেছে। বিজ্ঞানের বইয়ে গ্রীনহাউস সম্বন্ধে অনেক পড়লেও এখানেই প্রথম দেখা পায় সেই গ্রীনহাউসের। আবার এখানেই সবুজের সমারোহে গীটার হাতে স্থানীয়ছেলে মনের সুখে গান গাইছে দেখলাম ও শুনলাম। আমরা যখন গান শুনতে ব্যস্ত তখন দেখি আমার দশ মাস বয়সের ছেলে যে তখনও দাঁড়াতে শেখে নি তাকে ফুলের মাঝে দাঁড় করিয়ে তার বাবা ফটো তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে কারণ ঘাস এত ই নরম যে পড়ে গেলে ব্যথা পাবে না। তারপর আবার ঘরে ফেরা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...
-
তৃতীয় পর্ব। (বালির ওপরে এই বড়ো পোকার দরুণ মূর্ত হওয়া ডিজাইন।) ২৬শে ডিসেম্ব...
-
উদয়পুর শহর পরিক্রমা। 29শে ডিসেম্বর,2016. ভোর সাড়ে চারটের সময় আমরা উদয়পুর বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস থেকে নামল...
-
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...
No comments:
Post a Comment