আমি ঘুরতে খুব ভালোবাসি। এটা আমার বাবার কাছ থেকে বোধ হয় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। বাবা ,প্রায় প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় অথবা বার্ষিক পরীক্ষার শেষে ডিসেম্বর মাসে কখনো কাছে পিঠে কোথাও ,কখনো বা দূরের কোনো রাজ্যের জায়গা গুলি ঘোরাতে নিয়ে যেতেন। বিয়ের পর আমার স্বামীরও বদলির চাকরি হওয়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সুযোগ পেয়েছি। আমি সেগুলিকে এখানে পর্যায়ক্রমে চিত্র সহযোগে লিখতে চলেছি। যাতে পাঠক কুলও এই জায়গা সম্বন্ধে জানতে পারেন এবং এই জায়গার বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা দেখার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
Saturday, 19 December 2020
দার্জিলিং ভ্রমণের তৃতীয় পর্ব।
চতুর্থদিন সকালে উঠে আমরা মানে আমি, আমার ছেলে ও স্বামী গেলাম তেনজিং নোরগে মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট দেখতে। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায় 1954 সালে পাহাড়ে চড়ার শিক্ষার দেওয়ার জন্য এটা স্থাপনা করেন।প্রথম ভারতীয় এভারেস্ট জয়ী তেনজিং নোরগে এইখানে শিক্ষকতা করেছেন। পরবর্তীকালে উত্তর কাশী,মানালি ও কাশ্মীরেও এইরকম ইনস্টিটিউট খোলা হয়েছে। পাহাড়ে চড়ার প্রণালী ও সাজ-সরঞ্জামের সাথে 1857 সাল থেকে এভারেস্ট সহ আরো নানান হিমালয়ের শিখর অভিযান পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে ইনস্টিটিউটের এভারেস্ট মিউজিয়ামে। এখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংগ্রহও উল্লেখযোগ্য। ফিল্ম শো ছাড়াও নেপালের মহারাজাকে Adlof Hitlar-এর উপহার টেলিস্কোপে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে নেওয়া যায়। মাউন্টনিয়ারিং ইনস্টিটিউট লাগোয়া গড়ে উঠেছে পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক তথা চিড়িয়াখানা। হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার,লেপার্ড,হরিণ, টাইগার অনেক কিছু নিয়েই ভালোলাগা আছে। আমার বেশ মনে আছে এক লেপার্ডের খাঁচার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম,খাঁচার ওপারে থাকা একটা লেপার্ড হঠাৎ এমনভাবে খাঁচার কাছে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যে ভয়ে আমি প্রায় ছেলেকে নিয়ে উল্টে পড়ে যাচ্ছিলাম আমার হাজব্যান্ড ক্যামেরা ছেড়ে তাড়াতাড়ি ধরে নেওয়াই আমরা পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায় কিন্তু আমার ছেলে ভয়ে কাঁদতে শুরু করে। ওই ছোট ছেলে আর খাঁচার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে না ফটো তোলার জন্য। ঐদিন স্থানীয় কোনো প্রায়মারী স্কুলের বাচ্চারা এসেছিল চিড়িয়াখানা দেখতে। শীতের পোশাকে সজ্জিত বাচ্চাগুলোর কলতান চারদিককে আরো মুখরিত করে তুলেছিল।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...
-
তৃতীয় পর্ব। (বালির ওপরে এই বড়ো পোকার দরুণ মূর্ত হওয়া ডিজাইন।) ২৬শে ডিসেম্ব...
-
উদয়পুর শহর পরিক্রমা। 29শে ডিসেম্বর,2016. ভোর সাড়ে চারটের সময় আমরা উদয়পুর বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস থেকে নামল...
-
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...
No comments:
Post a Comment