আমি ঘুরতে খুব ভালোবাসি। এটা আমার বাবার কাছ থেকে বোধ হয় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। বাবা ,প্রায় প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় অথবা বার্ষিক পরীক্ষার শেষে ডিসেম্বর মাসে কখনো কাছে পিঠে কোথাও ,কখনো বা দূরের কোনো রাজ্যের জায়গা গুলি ঘোরাতে নিয়ে যেতেন। বিয়ের পর আমার স্বামীরও বদলির চাকরি হওয়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সুযোগ পেয়েছি। আমি সেগুলিকে এখানে পর্যায়ক্রমে চিত্র সহযোগে লিখতে চলেছি। যাতে পাঠক কুলও এই জায়গা সম্বন্ধে জানতে পারেন এবং এই জায়গার বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা দেখার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
Sunday, 10 January 2021
রাজস্থান ভ্রমণ ডায়েরী - প্রথম পর্ব।
আমরা ন'দিনের ট্যুরে রাজস্থান গিয়েছিলাম। ছুটি কম থাকায় খুব দৌড়ে দৌড়ে নিজেরাই এই ট্যুরটি করেছিলাম।অবশ্যই বর্তমান পত্রিকা ও ইন্টারনেট যুগের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এই ব্লগ পড়ে যদি কোনো ট্রাভেলারের উপকার হয় তাই যাতায়াত আর থাকা পর্বটি একটু বিস্তারিতভাবে লিখলাম। 1) 2016 সালের25শে ডিসেম্বর সকালের বিমানে দিল্লী পৌঁছে আবার ওখান থেকে দুপুর বারোটার জয়পুরগামী বিমানে জয়পুর পৌঁছে বিকেল চারটের নীলম এক্সপ্রেসে চেপে ভোরবেলায় ( 26শে ডিসেম্বর) জয়শলমীর পৌঁছায়। 2) 26শে ডিসেম্বর সকাল থেকে জয়শলমীর ঘুরে বিকেলে চলে যাই সাম্ ডিউন। 3) 27শে ডিসেম্বর জয়শলমীর থেকে সকালের যোধপুর এক্সপ্রেস ধরে বিকেলে যোধপুর পৌঁছোয়। পরেরদিন( 28শে ডিসেম্বর ) যোধপুর ঘুরে রাত্রে উদয়পুর যাওয়ার বাস ধরে সকালে উদয়পুর পৌঁছোয়। 4) 29শে ডিসেম্বর উদয়পুর ঘুরে রাত্রে আজমীর যাওয়ার ট্রেন ধরে রাত তিনটেয় আজমীর পৌঁছায়। 5 ) 30শে ডিসেম্বর সারাদিন আজমীর ও পুষ্কর দেখে নিই। 6) 31শে ডিসেম্বর সকালে ট্রেন ধরে ফিরে আসি জয়পুরে। 31শে ডিসেম্বর ও পয়লা জানুয়ারি জয়পুরে কাটিয়ে সেকেন্ড /দোসরা জানুয়ারি দিল্লী হয়ে বিমানে আবার কলকাতা ফিরে আসি। প্রথম পর্ব - ২৪শে ডিসেম্বর,2016সাল অবশেষে আমরা কলকাতা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বিমানবন্দরে এসে পৌঁছলাম অনেক আকাঙ্ক্ষিত ৯দিনের রাজস্থান ভ্রমণের জন্য। প্রথমেই অবশেষে লিখলাম কারণ এর আগে বেশ কয়েকবার যাবার পরিকল্পনা ভন্ডুল করতে হয়েছে আমার পতিদেবের জরুরী কাজ পরে যাওয়ায়।২০০৭-এ তো আসা-যাওয়ার টিকিট, হোটেল বুকিং-এর পরও ট্রিপটা ক্যান্সেল করতে হয়।মন খারাপের সাথে কিছু অর্থ গচ্ছাও যায়।যাইহোক আমরা রাত্রে সাড়ে নটায় পলতা থেকে বেরিয়ে লোকাল ট্রেনে দমদম স্টেশন পৌঁছে এক ওলা ক্যাবে চড়ে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ২, গেট নং ৩-এ গিয়ে পৌঁছালাম।আমাদের বিমান যাত্রার সময় ছিল সকাল সাতটায়, সেইজন্য রাত বারোটার পরই আমাদের লাউঞ্জে ঢুকতে দিল।ঠিক সেই মুহূর্তে আমি 1974 -এ পিছিয়ে গেছিলাম, ডিসেম্বরে বাবা -মা এর সাথে আমি,ভাই ও প্রিন্স( আমার বাবার মামাতো ভাই) বিমান বন্দরে বিমানদের রানওয়েতে খুব জোরে দৌড়ে আকাশে উড়ে যাওয়া এবং দৌড়ে অবতরণ করা দেখতে এসেছিলাম।অবাক চোখে খুব আনন্দের সাথে দেখে বাড়ী ফিরেছিলাম।রানওয়েটা লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা থাকায় বাইরে থেকে প্লেনের ওঠানামা দেখা যেত।বিমানে চড়তে না পাওয়ার দুঃখ ছিল না, তবে মনের মধ্যে একটা ইচ্ছে -সাধ তো ছিলোই আকাশে উড়ার অনুভূতিটা পাওয়া। আমার স্বামী বিগত কয়েক বছর ধরেই এই অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ হলেও আজ আমার ছেলে ও আমার সেই সাধপূরণের দিন।লাউঞ্জে ঢুকে ব্যাগপত্র এক বসার জায়গার কাছে রেখে ভেতরটা ঘুরে দেখতে লাগলাম ও কিছু ফটো তুলে আবার স্বস্থানে ফিরে এসে বাড়ী থেকে নিয়ে আসা খাবার গুলো উদরস্থ করলাম।ব্যাগপত্র গুছানো, ঘরদোরের ঠিকমতো ব্যবস্থা করা ইত্যাদি শ্রমজনিত কারণে চেয়ারে বসে বসেই একটু ঝিমুনি এসেছিল, কিন্তু হঠাৎ শোরগোলের আওয়াজে চোখ খুলে দেখি ভোর চারটে আর আমার সামনে লাগেজ হাতে যাত্রীদের বিশাল লাইন।আমার পতিদেব উদয়নও লাগেজের ওজন ও সিকিউরিটি চেকআপের জন্য গিয়েছে। আমাদের চেকিং এর সব ফর্মালিটিস পূরণ করে সেই বাসটিতে চেপে বসলাম, যেটি আমাদেরকে AIR INDIA-763 কাছে নিয়ে এলো।।নির্ধারিত আসনে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম।শীতের সকাল কুয়াশাচ্ছন্ন হওয়ায় প্লেন ছাড়তে দেরী হচ্ছিল।অবশেষে আবহাওয়া পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল হওয়ার পরে আমাদের প্লেনটাও একছুটে আকাশে উড়ে গেল।আমরা এখন মেঘের উপর দিয়ে উড়ছি,মনে হচ্ছে যেন আমার চারপাশে তুলো উড়ছে।জানালা দিয়ে তার কিছু ফটো নিলাম।পাইলটের ঘোষণা অনুসারে আমরা কখনো 27000 ft আবার কখনো বা 36000 ft উপর দিয়ে উড়ছিলাম। মেলায় উঁচু ইলেকট্রিক নাগরদোলা থেকে নীচে নামার সময় যে অভিকর্ষহীন অনুভূতিটা হয়, সেরকম লাগছিল।সকাল 9:20তে প্লেনটি ভূমি স্পর্শ করলেও আমরা দিল্লী এয়ারপোর্ট পৌঁছলাম 9::35a.m।জয়পুরের প্লেনের সময় 12টা হওয়াতে একটু কিছু খেয়ে নিয়ে আমরা দিল্লী বিমানবন্দর ও তার দোকানপত্রগুলো ঘুরে দেখে নিলাম।এটি তার পরিমাপ,সাজসজ্জা, ডিউটি ফ্রী শপ সবেতেই কোলকাতার থেকে অনেক আলাদা।আসলে দেশের রাজধানীর বিমানবন্দর ,ভালো তো হবেই। আবার দিল্লী থেকে রওয়ানা দিয়ে12:55 তে জয়পুর পৌঁছে গেলাম ।একটা ওলা ক্যাব বুক করে জয়পুর- জয়সলমীর ট্রেন (নীলম এক্সপ্রেস) ধরার জন্য জয়পুর স্টেশনে এসে পৌঁছলাম (12কিমি)। IRCTC র ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার খেয়ে ট্রেনে চেপে বসলাম এবং ঠিক বিকেল চারটেয় এটি তার গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য নড়ে উঠলো।সহযাত্রীরা প্রায় সকলেই ছিলেন আমাদের মতন পর্যটক।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...
-
তৃতীয় পর্ব। (বালির ওপরে এই বড়ো পোকার দরুণ মূর্ত হওয়া ডিজাইন।) ২৬শে ডিসেম্ব...
-
উদয়পুর শহর পরিক্রমা। 29শে ডিসেম্বর,2016. ভোর সাড়ে চারটের সময় আমরা উদয়পুর বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস থেকে নামল...
-
রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...
No comments:
Post a Comment