Wednesday, 7 April 2021

রাজস্থান ভ্রমণ- সপ্তম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ - সপ্তম পর্ব।       
  30শে ডিসেম্বর,2016. 
          আজমের  পরিক্রমা।     
   উদয়পুর থেকে আজমেরের দূরত্ব প্রায়  264 কিমি। এই দূরত্ব  প্রায় ছঘন্টায় অতিক্রম করে রাত তিনটের সময়  আমরা আজমের স্টেশনে। এখানেও আমরা আগে থেকে হোটেল বুক করি নি। উদয়পুরে যে ছেলেটি তার অটো করে  আমাদের বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়েছে তার বাড়ী আজমের  তার বাবারও অটো  আছে।সে তার বাবার সাথে আমাদের যোগাযোগ করিয়ে  দিয়েছিল। উনি স্টেশনে এসে প্রথমে আমার পতিদেবকে ওনার  এক পরিচিত হোটেল দেখাতে  নিয়ে যান,আমরা খানিকক্ষণ স্টেশনেই অপেক্ষা  করি। তারপর আবার ওই হোটেলে  গিয়ে  উঠি। উনি  আবার আটটার সময় আসবেন কথা দিয়ে বাড়ী ফিরে যান। এই প্রসঙ্গে দুটি  কথা  বলি। এক আজমের স্টেশনে রাত তিনটের সময় এত জনসমাগম দেখে সত্যি খুব  অবাক হয়েছিলাম আর হোটেলটিরও অবস্থা  তায় ছিল।চারিদিকে লোক নামছে উঠছে,গমগম করছে। দুই  আমাদের  এই যাত্রাপথে যে ছোট গাড়ী ও তার  সারথীদের আমরা পেয়েছি  সবার  ছিল  অমায়িক ব‍্যবহার ও সাহায্যকারী মনোভাব। তাদের সহায়তা  আমাদের  এই ট‍্যুরটাকে সাফল্যমন্ডিত করতে অনেকখানি সাহায্য করেছে। এখন সকাল হতে  অনেকখানি দেরী,তাই সবাই  আবার  একটু  গড়িয়ে নিলাম। সাতটা  বাজতেই  স্নান করে আজমের-শরীফ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে  নিলাম। এখানে  সেলিম  চিস্তিরের দরগা আছে,যেটি হিন্দু -মুসলিম নির্বিশেষে সমস্ত তীর্থযাত্রী অনেক পবিত্র  বলে মনে  করে। এই দরগার প্রথম ভাগটি তেরোশ সালে তৈরী হয়। মুঘল বাদশাহ  আকবরও  এখানে  আসতেন। প্রবেশ পথের  কাছেই খাবার রান্না করার দুটো  বড়ো বড়ো হাঁড়ি  রাখা  আছে। যার একটি  বাদশাহ আকবর ও অন‍্যটি জাহাঙ্গীরের দান। পাশেই  আকবর ও শাহজাহান এই  দুই  বাদশাহের বানানো মসজিদও আছে। আমরাও  ভক্তিভরে দরগার উপর কাপড় চড়িয়ে ফুল ছড়িয়েছিলাম। আমরা গোলাপফুল পূজায় ব‍্যবহার করি না। আর এখানে  নজর কাড়ছিল দোকানে দোকানে লাল-সাদা গোলাপে সাজানো ফুলের ডালা। দরগায় ঢোকার  তোরণটি হায়দ্রাবাদের নিজাম  বানিয়ে দিয়েছিলেন।   ( মাজারে যাওয়ার আগে  ফুলের ডালি ও চাদর হাতে।)(   দরগায় ঢোকার প্রধান প্রবেশ পথ।)   আজমের শহর  ছিল  চৌহান রাজবংশের অন‍্যতম কেন্দ্র। মহম্মদ ঘোরীর কাছে পৃথ্বীরাজ চৌহানের  হারের পর বদলে যেতে থাকে এই শহরের ইতিহাস। পাহাড়ের উপর অবস্থিত চৌহান বংশের তৈরী  তারাগড়  দূর্গ সময়ের অভাবে আর যাওয়া হয়ে ওঠে   নি। নীচ থেকে  তার প্রাচীর দেখেই  অন্য গন্ত‍ব‍্যের জন্য  রওনা দিয়েছিলাম কারণ এখনো পুষ্কর দেখা  বাকী।এরপর আমরা একেএকে গেলাম  আন্নাসাগর হ্রদ,মিউজিয়াম ও  লাল পাথরের  তৈরী দিগম্বর জৈন মন্দির।                                আন্নাসাগর হ্রদ - আজমের শহরের পশ্চিমে দুই পাহাড়ের মাঝে লুনী নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরী হয়েছে  এই কৃত্রিম হ্রদ। এর রূপে মুগ্ধ হয়ে তার স্মৃতিটুকু ধরে  রাখার জন্য কিছু ছবি তোলা হলো। 
(আন্নাসাগর হ্রদ।) এরপর  পৌঁছে গেলাম  মিউজিয়ামে,যেটি আগে নাকি  ছিল সম্রাট আকবরের প্রাসাদ।                          তারপর পৌঁছে গেলাম লাল পাথরের তৈরী দিগম্বর জৈন মন্দির।দোতলার জানালা  দিয়ে  ভেতরে  তাকিয়ে  প্রথমটায় অবাক হওয়ার  পালা।প্রথমে যেন কি দেখছি বুঝতেই পারছিলাম না।পরে পাশে  রাখা  বোর্ড  পড়ে  বুঝলাম যে সুন্দর কারুকার্যময় বিশাল বড়ো এই  হলঘরে 1000কেজি সোনায় গিলটি করা কাঠের মডেলে প্রথম জৈন তীর্থঙ্কর আদিনাথ বা ঋষভদেবের জন্ম-ক্রমবিকাশ ও জৈন মিথোলজি প্রদর্শিত হয়েছে।
( জৈন মন্দির -কাঠের উপর সোনার গিল্টি করা )   এইসব জায়গাগুলো  আমরা দুপুর বারোটার মধ্যেই দেখে নিয়ে  আজমের বাসস্ট্যান্ডে চলে এলাম।এখান  থেকে  14 কিমি দূরে অবস্থিত পুষ্কর যাওয়ার জন‍্য। সেই  গল্প  আবার  পরের পর্বে।
মিউজিয়ামে লক্ষী-নারায়ণের মূর্তি।

No comments:

Post a Comment

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব।

রাজস্থান ভ্রমণ- দশম তথা অন্তিম পর্ব। জয়পুর শহর ভ্রমণ। 1st জানুয়ারি,2017. 1লা জানুয়ারি  আমরা ঠিক 8:45-এ RTDC-র তীজ হোটেলে, আমাদের কবীর মার্গে...