রাজস্থান ভ্রমণ- নবম পর্ব।
আজমের শরীফ থেকে জয়পুর।
31st ডিসেম্বর,2016.
ভোর পাঁচটায় হোটেল থেকে বেরিয়ে আজমের স্টেশনে এসে পৌঁছোলাম সাড়ে ছটার জয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ধরার জন্য কিন্তু বিধি বাম সেই ট্রেন এল সকাল নটায়। আমরা জয়পুর পৌঁছালাম দুপুর বারোটায়। স্টেশনের কাছেই হোটেলের বুকিং থাকায় তাড়াতাড়ি স্নান -খাওয়া সেরে দুপুরভ্রমণ করতে করতে আবার স্টেশনে এসে পৌঁছালাম RTDC থেকে পরেরদিন জয়পুর ভ্রমণের( স্থানীয় দর্শনীয় স্থান ) টিকিট সংগ্রহ করতে।
টিকিট সংগ্রহ হয়ে গেলে অটো করে আমরা গেলাম হাওয়া মহল দেখতে। RTDC-র ট্যুরে হাওয়া মহল বাইরে থেকে দেখায় ভেতরে ঢোকার সময় হয় না। হাওয়া মহলে হাওয়া খাওয়ার লক্ষ্যে টিকিট কেটে সিঁড়ি ভেঙে ওপরে পৌঁছে গেলাম। এই মহল তৎকালীন জয়পুরের রাজা 1799 সালে পরিবারের মহিলা রা যাতে রাজপথে অনুষ্ঠিত পূজা-পার্বণ,শোভাযাত্রা ইত্যাদি দেখতে পারে আর গরমের দিনে ঠাণ্ডা হাওয়া চলাচল করতে পারে তারজন্য বানিয়ে ছিলেন কারণ তখন পরিবারের মেয়ে-মহিলাদের মুখ না ঢেকে বাইরে বেরোবার অনুমতি ছিল না।
এর পর এলাম হাওয়া মহল সংলগ্ন জহুরি বাজার।এই বাজারটি হাওয়া মহল সংলগ্ন রাস্তার দুইদিকে বিস্তৃত ও বেশ বড়ো। বাজারের জিনিসপত্র সব খুব পছন্দসই। আমার তো মনে হচ্ছিল যেন সবকিছুই কিনে নিই।কতরকম রঙবেরঙের বাঁধনি কাজের শাড়ী,ওড়না,বিছানার চাদর। কাঁচ বসানো রকমারী চুড়ি,নাগরা জুতো-চটি। আমি বেড়ানোর সাথে সময় পেলে কেনাকাটাকেও প্রাধান্য দিই।যতোই কলকাতায় সবকিছু পাওয়া যাক না কেন একটু দেখেশুনে কিনে বাড়ীতে ফিরে যখন ওগুলো খোলা হয়, ( হাওয়া মহলের সামনে। ) তখন এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে আর কাছের মানুষজনকে উপহার দিতেও ভালো লাগে।আর আমার ঠাকুমা-মাকেও দেখেছি এইরকম মোমেন্টো কিনে নিয়ে আসতে।যাইহোক বেশ খানিকক্ষণ এদিক -ওদিক ঘুরে দরদাম করে ছেলের একটা পাঠানস্যুট, নিজের ও ছেলের কয়েক জোড়া জুতো আর বিভিন্নরকম চুড়ি,কানের দুল ইত্যাদি কিনে রাতের আলোকোজ্জ্বল হাওয়া মহলের সামনে ছবি তুলে হোটেলে ফিরি। (কেনাকাটায় ব্যস্ত আমি।)
No comments:
Post a Comment