রাজস্থান ভ্রমণ - অষ্টম পর্ব।
30শে ডিসেম্বর,2016.
পুষ্কর পরিক্রমা।
আজমের ভ্রমণে যে অটোদাদা আমাদের সঙ্গী ছিলেন,ওনাকে আজমের বাসস্ট্যান্ডে বিদায় জানিয়ে স্থানীয় বাসে চেপে বসলাম 14 কিমি দূরে অবস্থিত পুষ্কর যাওয়ার জন্য।
আরাবল্লী পর্বতমালার নাগপাহাড় আজমের থেকে পুষ্করকে আলাদা করেছে। এখানে পৌঁছে প্রথমেই গেলাম পুষ্কর সরোবর। ( পুষ্কর হ্রদে নামার এক ঘাট।) সরোবরের চারপাশ সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো আর সর্বমোট বাহান্নটি ঘাট আছে।(পুষ্করের বাহান্নটি ঘাটের এক ঘাট।)চারপাশে মন্দিরের সংখ্যা প্রায় পাঁচশ 'র বেশি। কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তি ঘাটের উপর বসে গল্প গুজব করছিলেন দেখে নতুন কোনো তথ্যের বা গল্পের আশায় আমার পতিদেবও তাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন আর তার শেষটা হলো আমার ছেলের মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষদের পিণ্ডদান। ওনাদের কাছে সব রেডিমেড তৈরী থাকে তাড়াতাড়ি সব ব্যবস্থা করে হয়ে গেল। (আমার ছেলের দাদু, ঠাকুর্দা ও অন্যান্য পূর্বপুরুষদের জল দান।) এটা জানা ছিল যে স্নান, দান, তর্পণ, শ্রাদ্ধ, পারলৌকিক ক্রিয়া ইত্যাদিতে অক্ষয় ফল মেলে পুষ্করে কিন্তু আমাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। অথচ কিভাবে সব হয়ে গেল। না ওনারা আমাদের থেকে অনেক টাকাপয়সাও কিছু দাবী করেননি অল্প কিছুই নিয়ে ছিলেন। এরপর ঘাটের ধারের আরো কিছু মন্দির ঘুরে এসে পৌঁছালাম ব্রহ্মা মন্দিরে। পূজোর ডালা নিয়ে লাইনে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে তারপর ভগবানজীর মূর্তির সাথে দেখা হলো।( ডালা নিয়ে ব্রহ্মামন্দিরে যাবার লাইনে দাঁড়িয়ে। )এই মন্দিরের পেছনেই ছিল বেদমাতা গায়ত্রীদেবীর মন্দির ও এক শিব মন্দির। (বেদমাতা গায়ত্রীর মন্দির।)
(সিঁদুরে লাল রঙের ব্রহ্মামন্দিরে আমি ছেলের সাথে।)
( ব্রহ্মামন্দিরে ঢোকার প্রবেশপথ।) ভক্তিভরে প্রণাম করে বেড়িয়ে আমরা এলাম পুষ্করের উঁটের মেলার মাঠ। প্রতিবছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমাতে এখানে পাঁচ দিন ধরে মেলা হয়। দূর -দূর থেকে বিক্রেতারা এখানে উঁট নিয়ে বিক্রীর আশায় জমা হয়। (সুসজ্জিত উঁট ও উঁটের গাড়ি সওয়ারীর অপেক্ষায়।) এইসময় অনেক দেশী-বিদেশী পর্যটক এই মেলা দেখে আনন্দ নিতে আর পুষ্কর হ্রদে স্নান করে পুণ্য অর্জন করতে আসে।আমরা এখানে হেঁটে হেঁটেই ঘুরছিলাম। ব্রহ্মা মন্দিরে পূজার জন্য আমরা কেউই লান্চ করিনি টুকটাক মিষ্টি ফলমূল খেয়েই ছিলাম। এইবার সকলের পেটে ইঁদুর লাফাতে শুরু করেছে তো আগে কিছু খেয়ে নেওয়া হলো। আমরা মেলার মাঠটি পুরো একবার চক্কর দিলাম,কিছু সুন্দর ও সুসজ্জিত উটেরও দেখা পেলাম। আসলে এই মেলার কথা সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও অন্য অনেক বই-এ অনেক পড়েছি তাই তার এক অন্য আকর্ষণ। পুষ্করের দোকান থেকে স্মৃতি হিসাবে কিছু ওয়াল হ্যাংগিং,চাবির রিং ইত্যাদি কিনে আজমের ফেরার বাস ধরার জন্য রওনা দিলাম কারণ দিনের আলো কমে আসছিল। আজমের ফিরে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে আবার বেরিয়ে ছিলাম। সকালবেলায় দরগা যাওয়ার পথে এই বাজারটার দোকান -পাট সব নজরে পড়ছিল কিন্তু সময়াভাবে আর যাওয়া হয়ে ওঠে নি।রাত নটার সময় যখন এই কথাটা রিসেপসনে বলছিলাম ওনারা বল্লেন এখানে দোকান সারারাত ঘুমায় না। আপনারা এখনো যেতে পারেন। ওনাদেরই একজন এসে কিছুটা রাস্তা চিনিয়ে দিয়ে ফিরে গেলেন। রঙবেরঙের চুড়ি, ওড়না, বাসনপত্র সবকিছুই খুব ভালো। হাঁটতে হাঁটতে দরগার প্রবেশ পথের সামনে অবধি গিয়েও রাত্রে আর ঢোকার সাহস দেখাতে পারলাম না। ঘড়ির কাঁটা বারোর ঘর পার করে গেছে যদিও বাজারে সন্ধ্যা ছটার ব্যস্ততা আমাদের হোটেলের দিকে পা বাড়ানো কাল সকালে আমাদের রাজস্থান ভ্রমণের সর্বশেষ স্থান জয়পুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হবে।
( ব্রহ্মামন্দিরে ঢোকার প্রবেশপথ।) ভক্তিভরে প্রণাম করে বেড়িয়ে আমরা এলাম পুষ্করের উঁটের মেলার মাঠ। প্রতিবছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমাতে এখানে পাঁচ দিন ধরে মেলা হয়। দূর -দূর থেকে বিক্রেতারা এখানে উঁট নিয়ে বিক্রীর আশায় জমা হয়। (সুসজ্জিত উঁট ও উঁটের গাড়ি সওয়ারীর অপেক্ষায়।) এইসময় অনেক দেশী-বিদেশী পর্যটক এই মেলা দেখে আনন্দ নিতে আর পুষ্কর হ্রদে স্নান করে পুণ্য অর্জন করতে আসে।আমরা এখানে হেঁটে হেঁটেই ঘুরছিলাম। ব্রহ্মা মন্দিরে পূজার জন্য আমরা কেউই লান্চ করিনি টুকটাক মিষ্টি ফলমূল খেয়েই ছিলাম। এইবার সকলের পেটে ইঁদুর লাফাতে শুরু করেছে তো আগে কিছু খেয়ে নেওয়া হলো। আমরা মেলার মাঠটি পুরো একবার চক্কর দিলাম,কিছু সুন্দর ও সুসজ্জিত উটেরও দেখা পেলাম। আসলে এই মেলার কথা সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও অন্য অনেক বই-এ অনেক পড়েছি তাই তার এক অন্য আকর্ষণ। পুষ্করের দোকান থেকে স্মৃতি হিসাবে কিছু ওয়াল হ্যাংগিং,চাবির রিং ইত্যাদি কিনে আজমের ফেরার বাস ধরার জন্য রওনা দিলাম কারণ দিনের আলো কমে আসছিল। আজমের ফিরে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে আবার বেরিয়ে ছিলাম। সকালবেলায় দরগা যাওয়ার পথে এই বাজারটার দোকান -পাট সব নজরে পড়ছিল কিন্তু সময়াভাবে আর যাওয়া হয়ে ওঠে নি।রাত নটার সময় যখন এই কথাটা রিসেপসনে বলছিলাম ওনারা বল্লেন এখানে দোকান সারারাত ঘুমায় না। আপনারা এখনো যেতে পারেন। ওনাদেরই একজন এসে কিছুটা রাস্তা চিনিয়ে দিয়ে ফিরে গেলেন। রঙবেরঙের চুড়ি, ওড়না, বাসনপত্র সবকিছুই খুব ভালো। হাঁটতে হাঁটতে দরগার প্রবেশ পথের সামনে অবধি গিয়েও রাত্রে আর ঢোকার সাহস দেখাতে পারলাম না। ঘড়ির কাঁটা বারোর ঘর পার করে গেছে যদিও বাজারে সন্ধ্যা ছটার ব্যস্ততা আমাদের হোটেলের দিকে পা বাড়ানো কাল সকালে আমাদের রাজস্থান ভ্রমণের সর্বশেষ স্থান জয়পুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হবে।
No comments:
Post a Comment